About

.

অসুখ থেকে বাঁচতে

আজ বিকেলে রুমানার গায়ে হলুদ। রুমানা হলো ফারাহর বান্ধবী অনন্যার ছোট বোন। বান্ধবীর বোনের বিয়ে উপলক্ষে ফারাহর বান্ধবীদের মাঝে বেশ একটু সাজ সাজ রব পড়ে গেল। মার্কেটে বেড়ে গেল ঘোরাঘুরি, টেলিফোনে ঘন ঘন আলাপন, ‘এ্যাই শামীমা আসছে তো ? মহুয়াকেও বলেছিঃ।’ সংসার, চাকরি নানান সূত্রে বন্ধুদের ব্যস্ততায় ক্ষীণ হয়ে আসা যোগাযোগটা ঝালাই করে নেওয়া যাবে এই উপলক্ষে, উৎসাহের তাই কমতি নেই। ফারাহও বেশ পছন্দ করে একটা শাড়ি কিনেছে আজকে পরার জন্য। খোপায় পরার ফুলও আনিয়ে রেখেছে দুপুরের মধ্যে। কিন্তু হঠাৎই সকল উৎসাহে যেন ভাটা পড়ে গেল যখন ছোট ছেলে রাব্বী ছটফট করতে লাগল পেটের ব্যথায়। ক’দিন ধরেই ছেলেটার শরীরটা শুকিয়ে যাচ্ছে, খাওয়া-দাওয়ার পরিমাণ অবশ্য হ্রাস পায়নি। কৃমির আক্রমণ নয় তো ? ওদিকে বড় ছেলে রাকিব কোচিং থেকে ফিরল ‘হ্যাচ্চো হ্যাঁচ্চো’ হাচি দিতে দিতে। উদ্বিগ্ন আশঙ্কায় ফারাহ্‌ ভাবতে লাগল, এবার রাজিব (ফারাহর স্বামী) অফিস থেকে ফিরে ওষুধের বাক্সে মাথা ব্যথার ঔষুধের খোঁজে বসলেই ষোলকলা পূর্ণ হয়।

মানুষের আহার গ্রহন ও ডায়াবেটিস



ফার্স্ট ফুড নয়, প্রচুর তাজা ফল সবজি খান। দৈনন্দিন জীবনযাপনে এরকম ছোটখাট পরিবর্তন আয়ু যেমন বাড়াবে তেমনি ডায়াবেটিসের মত ক্রনিক রোগ ও এর জটিলতা থেকেও বাচাঁবে।


স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে একদিন মন যাবেই। ভোরে উঠে এক গ্লাস কোমল পানীয় পান না করে যদি একগ্লাস পানি পান করা যায় তাহলে একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় যোগ হলো দৈনিক আহারের সঙ্গে। কালক্রমে এরকম দুএকটি ছোটখাট পরিবর্তন যোগ হতে হতে একদিন স্বাস্থ্যকর আহার হবে গোটা দিনের জন্য। মনও তখন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চাইবে। পেষ্ট্রিশপে গিয়ে কেক, পেষ্ট্রি খাবার জন্য যে আগ্রহ ছিলো একদিন তা থাকবেনা। মন ছুটে যাবে কাঁচাবাজারে, তাজা ফল ও সব্‌জি কেনার জন্য।


কলা খান সুস্থ থাকুন

কলা কেবল ফল হওয়ার খ্যাতি ছাড়িয়েও অনেক দূর ওপরে উঠেছে। কথাটি সত্য, কলার মধ্যে অন্য ফলের তুলনায় জলীয় অংশ কম। মানে হলো, এক কামড় কলা থেকে শ্বেতসার বেশি পাওয়া যায় অন্য ফলের চেয়ে; তাই ক্যালরিও পাওয়া যায় বেশি। পানির কোনো ক্যালরি মূল্য নেই, তাই যে ফলে জলীয় ভাগ বেশি, প্রতি সার্ভিংয়ে তার ক্যালরি মূল্যও কম।
তবে এর মানে এই নয় যে কলা খাওয়া বাদ দিতে হবে, ওজন-সচেতন হলেও। কলায় নেই কোনো চর্বি, কোলেস্টেরল বা সোডিয়াম। আর কলা খুব পুষ্টিকর। কলায় রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আবার কলায় রয়েছে বেশ ভিটামিন-বি৬, যা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং শরীরের প্রোটিন, স্নায়ুকোষ ও ইমিউন কোষ নির্মাণেও সহায়ক। আছে ভিটামিন-সি, যা দেহ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। আরও আছে আঁশ, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাক নালির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
খুব ক্যালরি-সচেতন হলে ছোট কলা পছন্দ করুন, হাতের বড় আঙুলের সমান কলা। এসব ছোট কলা থেকে পাবেন মাত্র ৫০-৬০ ক্যালরি (ছোট আপেলের চেয়েও কম)। ফালি ফালি করলে অর্ধেক কাপ হবে।
ছোট কলা ৬-৭ ইঞ্চি: ৯০ ক্যালরি
মাঝারি কলা ৭-৮ ইঞ্চি: ১০৫ ক্যালরি
বড় কলা ৮-৯ ইঞ্চি: ১২১ ক্যালরি
এক্সট্রা লার্জ কলা (৯ ইঞ্চির চেয়ে বেশি): ১৩৫ ক্যালরি।
পেটটা যাতে চ্যাপ্টা থাকে, সেজন্য যেসব খাবারের পরামর্শ আছে, এর মধ্যে কলা অন্যতম। পুষ্টিকর, খুব পুষ্টিঘন খাবার হিসেবে কলার জুড়ি কম।
একটা কথা বলি, কোনো বিশেষ খাবার খেলে মানুষ মোটা হয়, এমন কথা মানা যায় না। আপনি তখনই মোটা হবেন, যখন যে পরিমাণ ক্যালরি নিচ্ছেন, সে পরিমাণ ক্যালরি ব্যায়াম করে পুড়িয়ে ফেলতে পারছেন না। সঠিক পরিমাণে খেলে কোনো খাবারই শরীরকে স্থূল করতে পারে না। তাই হাতের আঙুলের সমান কলা খেলে ক্যালরি আর কতই খাওয়া হবে! চম্পক অঙ্গুলি, চাঁপা কলা—এসব অনেকেরই পছন্দ, নয় কি? দই, মুড়ি বা খইয়ের সঙ্গে ফালি ফালি কলা—তোফা নাশতা!
দুধভাতে কলা চটকে খেতেও মজা। ফলের সালাদে কলা ভালো অনুষঙ্গ। চকলেট, আইসক্রিমেও থাকতে পারে কলা। কলা দিয়ে নতুন নতুন রেসিপি হতে পারে। তাই যাঁরা ফলের বাজারে সওদা করছেন, তাঁরা বাজারের থলেতে কলা অবশ্যই নেবেন। শুনেছি, সংগীতশিল্পীরা পারফর্ম করার আগে কলা খেয়ে নিলে নার্ভাসনেস ও টেনশন নাকি কমে। কলার এই গুপ্ত কৌশল কারও কি জানা আছে? সত্যি কি?

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকে
কলা হোক প্রিয় খাবার পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম হাসপাতাল
সাম্মানিক অধ্যাপক, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো,

শিশুর জন্য সুষম খাদ্য

স্বাস্থ্য সুঠাম ও অটুট রাখতে হলে সঠিক খাদ্য নির্বাচন করা খুবই প্রয়োজন। দেখা গেছে: মাছ, মাংস বা ডাল, দুধ, ভাত বা রুটি, ফল-সবজি, পানি এই পাঁচ জাতের খাদ্য আমাদের প্রতিদিনের খাবারে থাকলে আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা হয়। এই খাবারগুলোর প্রতিটির পরিমাণ এমন হতে হবে, যাতে কেলোরি, ভিটামিন, খণিজ-লবণ, পানি- এই চারটি জিনিসেরই দৈহিক চাহিদা ঠিকমত পূরণ হয়; আর এ-রকম খাদ্যই হচ্ছে সুষম খাদ্য। সাধারণভাবে বলা যায়, উপরে যে ছয় ধরনের খাবারের উৎস লিখা হয়েছে, এর প্রতিটি উৎস থেকে একটি বা দুটি পছন্দসহ খাবার-যা স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এবং দামেও কম-বেছে নিয়ে মিলিয়ে প্রতিদিন খেলে দেহের খাদ্য-চাহিদা পূরণ হয়। প্রতিদিনই মাছ, মাংস বা ডিম জোগাড় করা না গেলে দুশ্চিন-ার কিছু নেই, এ-গুলোর পরিবর্তে ডাল, সিমের বিচি বা ছোলা খেলেও চলবে। অনেক শিক্ষিত পরিবারে-এ রকম দেখা যায়: ছেলে পছন্দ করে তাই তাকে ভাত, চিনি ও ঘি দিয়ে খাবার দেয়া হয়। এ-ভাবে খেলে তার কাজ করার শক্তির চাহিদা কিছুটা মিটবে, কিন্তু এই খাবারে আমিষ-লবণ-ভিটামিনের অভাবহেতু তার শরীরের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি-সাধন হবে না, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জন্মাবে না।

আমাদের খাওয়ার অভ্যাস
খাবার দামী হলেই যে তা সব সময় ভাল খাবার হবে, এর কোন মানে নেই। কম দামের খাবার থেকেও দেহের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যাপাদান পাওয়া যেতে পারে। মাছ, মাংস ও ডিমের দাম বেশী; এ সমস্ত আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাব আমরা কম দামের খাদ্য, যেমন ডাল, সিম, ছোলা ইত্যাদি দিয়ে পূরণ করতে পারি। হয়তো অনেকেই জানেন না যে, ডালে প্রচুর আমিষ থাকে, ডাল থেকে ভিটামিন এবং খণিজ লবণও পাওয়া যায়।

ভাত-ডাল-তেল-সবজি (কলা-পেঁপে-লাউ) এবং সম্ভব হলে মাংস, কলিজা বা ডিম মিলিয়ে যে খিচুড়ি তৈরী করা হয়, তা খুবই মুখরোচক এবং পুষ্টিকর। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ছয়টি খাদ্যাপাদানই বর্তমান থাকে। চালের চেয়ে গম কম পুষ্টিকর নয়। গমের দামও কম। দুই-এক বেলা আটার রুটি বা আলুর চপ খেয়েও আমরা চালের চাহিদা কমাতে পারি। সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবণ আছে। গ্রামে প্রায় প্রত্যেকের বাড়ীতেই রান্নাঘরের পাশে ছোট্ট এক চিলতে জায়গা থাকে। এতে সহজেই মৌসুমী ফল-মূল ও শাক-সবজি ফলানো যায়। তাহলে, শাক-সবজি বাজার থেকে কম কিনতে হয়।

অনেকেই মনে করেন: ফল দামী হলেই বুঝি এর খাদ্যমান বেশী হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আপেল ও কমলালেবুর দাম পেয়ারা বা আমলকির চাইতে অনেক বেশী; কিন্তু পেয়ারা বা আমলকিতে যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে, তা কমলালেবু ও আপেলের চাইতে অনেকগুণ বেশী। উপরোন্ত, পেয়ারাতে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। আঙ্গুরের খাদ্যমান অত্যন্ত নিম্নমানের।

অধ্যাপক ডা. এম আর খান
লেখক : জাতীয় অধ্যাপক এবং
প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ