About

.

সুস্থ সবল হার্ট চাইলে কি করতে হবে

বর্তমান সময়ে হৃদরোগ শুধু উন্নত বিশ্বেই নয়, বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেও ভয়াবহরূপে বিস্তার লাভ করছে। যেহেতু হৃদরোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল। এজন্য এ রোগ প্রতিরোধের দিকে জোর দিতে হবে। জীবনের জন্য সুস্থ হার্ট-সবসময় মনে রাখতে হবে। মানব দেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হার্ট। সুস্থ হার্ট মানেই সুস্থ মানুষ। সুতরাং হার্টকে সুস্থ রাখা একান্ত প্রয়োজন। সুস্থ হার্টের জন্য তিনটি বিষয় মেনে চলা জরুরী-
১. নিয়মিত ব্যায়াম
২. সুষম খাদ্য গ্রহণ
৩. মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা পরিহার এবং ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিত্যাগ

নিয়মিত ব্যায়ামসুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। হার্টকে সবল রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। ব্যায়াম করার জন্য সুপার এ্যাথলেট হওয়ার প্রয়োজন নেই। যে কেউ ব্যায়াম করতে পারে। ব্যায়ামকে আনন্দের বিষয় মনে করলে এটা অভ্যাসে পরিণত হয়। এমন ব্যায়াম নির্বাচন করতে হবে যেটা করতে ভালো লাগে। গ্রুপ করেও ব্যায়াম করা যায়। যেমন-ফুটবল, বাস্কেট বল, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি খেলার মাধ্যমে আনন্দ যেমন পাওয়া যায় তদ্রুপ ব্যায়ামও হয়। যে কেউ যে কোনভাবে অনুশীলন করতে পারে। যেমন-হাঁটা, দৌড়ানো, দড়ি খেলা, নাচা, বাইসাইকেল চালনা, সাঁতার কাটাসহ অসংখ্য কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যায়াম হয়। শারীরিক পরিশ্রমও এক ধরনের ব্যায়াম। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে শারীরিক পরিশ্রম এবং নিয়মিত ব্যায়াম খুবই প্রয়োজন।
০ নিয়মিত হাঁটুন। প্রথমে হাঁটার পরিমাণ ১০-১৫ মিনিট করুন এবং ধীরে ধীরে ৩০ মিনিটে নিয়ে আসুন। সকালের নাস্তার পূর্বে এবং রাতের খাবারের পরে হাঁটা ভাল।
০ কাছের কোন দোকানে যেতে চাইলে রিকসা বা গাড়ির পরিবর্তে হাঁটুন অথবা সাইকেল ব্যবহার করুন।
০ লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন কিংবা কাঙ্খিত ফ্লোরের ২-৩ ফ্লোর আগেই নেমে বাকিটুকু সিঁড়ি দিয়ে নামুন।
০ গন্তব্য বাস স্টপেজের কিছুদূর আগেই নামুন এবং সেখান থেকে হেঁটে গন্তব্যস্থলে পৌছান।
০ নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ক্যালেন্ডারে চিহ্ন দিয়ে রাখুন, কবে কখন ব্যায়াম করবেন।
০ যদি সিডিউল মিস হয়ে যায় তবে অন্যদিন তা করে নিন। ব্যায়াম সপ্তাহে ৩-৪ বার ৩০-৬০ মিনিট করার চেষ্টা করুন।
০ বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করুন। যেমন-একদিন হাঁটুন, অন্যদিন সাঁতার কাটুন, এর পরদিন সাইকেল চালান।
০ অনুশীলনের সময় এবং পরে পানি পান করুন।
০ মেডিটেশন করা হার্টের জন্য খুব ভালো। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে মেডিটেশন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। কারণ মেডিটেশনের মাধ্যমে যে মানসিক চাপ মুক্ত হওয়া যায় তা শরীরের নিজস্ব পুনর্গঠন প্রণালী আর্টারীর দেয়ালের চর্বি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।
০ ৪০ বছরের অধিক বয়সে হঠাৎ করে নতুন কোন ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়। পূর্বের ব্যায়ামগুলো করাই ভাল।
০ ব্যায়াম করার সময় কোন রকম শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিতে হবে এবং অনতিবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
০ নিয়মিত প্রার্থনা করুন, এতে মন ভাল থাকে।

সুষম খাদ্য গ্রহণবেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। সুস্থ হার্টের অধিকারী হওয়ার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস একান- জরুরী। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং দারিদ্রতা বিভিন্ন রোগের কারণ। যেমন সুষম খাবার (Balanced Food) সম্পর্কে অনেকে জানে না। গরীবরা সুষম খাবারের অভাবে অনেক সময় অপুষ্টিতে ভোগে। অপরদিকে ধনীরা সুষম খাবারের কথা না জেনে ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার খেয়ে সঠিক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার অত্যধিক পছন্দের। এছাড়া তারা কায়িক পরিশ্রম করতে চায় না। এই ফাস্টফুড খাওয়ার দরুন এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবে নারী, শিশু, উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যেমন-ওবেসিটি বা শারীরিক স্থূলত্ব, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব, দীর্ঘ মেয়াদী পেটের পীড়ার মত জটিল সমস্যা। অথচ আমাদের চারিদিকে নানান ধরনের শাক-সবজি রয়েছে। দেশীয় ফল যেমন-কলা, কামরাঙ্গা, আমলকী, আনারস, পেঁয়ারা, পেঁপে, বড়ই, আমড়া, জলপাই, কাঁঠাল, ডালিম, লেবু ইত্যাদি রয়েছে। যেগুলো যেমন সস্তা তেমন সহজলভ্য। এই সব ফল-মূল খাওয়ার মাধ্যমে সুস্থ থাকা সম্ভব। সুষম খাদ্য গ্রহণ জীবনকে সুন্দর করে তোলে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার:
০ প্রচুর পরিমাণে ফল-মূল, শাক-সবজি খান
০ অতিরিক্ত লবণ এবং চিনি গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। প্রতিদিন ৩ গ্রাম এর অধিক লবণ গ্রহণ করা উচিত নয়।
০ সকালে নাস্তা এবং দিনে তিন বার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।
০ কড়া এবং অতিরিক্ত তেলে ভাজার পরিবর্তে ভাঁপ, সিদ্ধ, ঝলসানো, বেকিং করে রান্না করতে হবে অর্থাৎ রান্নার প্রণালীটি স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে।
০ মিষ্টি এবং গুরুপাক জাতীয় খাবার ক্রয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
০ প্রতিদিন অন্তত: ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
০ খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শস্য জাতীয় খাদ্য দ্রব্য রাখুন।
০ কম চর্বিযুক্ত এবং চর্বিবিহীন খাবার বেছে নিন।
০ উদ্ভিদ জাতীয় তেল যেমন-সানফ্লাওয়ার, কর্ণ অয়েল খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করুন।
০ মাছ, মুরগীর মাংস, সীম এবং ডাল জাতীয় যে কোন খাবার ও চর্বিবিহীন মাংস গ্রহণ করুন।
০ ডিমের কুসুম, চিংড়ী মাছ, গরু, খাসীর মাংস এবং মগজ পরিহার করুন।
০ খাবারের বিভিন্ন ক্ষতিকর কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা পরিহার এবং ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিত্যাগ হার্টের কাজ হলো পরিশুদ্ধ রক্ত সমস্ত দেহে সরবরাহ করা। যদি কেউ ধূমপায়ী হয়, এ্যালকোহল পান করে কিংবা নিষিদ্ধ ড্রাগ নেয় তাহলে তার হার্টের অতিরিক্ত পরিশ্রম হয়। অধিক পরিশ্রম করলে আমরা যেমন পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ি তদ্রুপ হার্টও ক্লান্ত হয়ে যায়। এরূপ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হার্ট রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে ধূমপান হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগে মৃত্যুর হার বহুগুণে বাড়ে। সুতরাং ধূমপান করা মোটেই উচিত নয়। কেউ ধূমপায়ী হলে এখনই ছেড়ে দিন। গবেষণায় আরও প্রমাণিত হয়েছে যেসব ধূমপায়ী ১০ বছর যাবৎ ধূমপান সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করেছেন তাদের হঠাৎ করে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কমে গেছে। যে কোন ধরনের নেশা জাতীয় ড্রাগ হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই সকল নেশা জাতীয় দ্রব্য ত্যাগ করা উচিত। এমন কি ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোন ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। উপরের নিয়মগুলো মেনে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং সুস্থির জীবন-যাপনের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ অনেকটাই সম্ভব।

জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) আব্দুল মালিক
প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক,

হেপাটাইটিস বি

১৯৬৫ সালে এক অস্ট্রেলীয় আদিবাসীর রক্তে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ কোটি লোক হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত, যাদের প্রায় এক কোটির বাস বাংলাদেশে। রক্ত আর স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে এ ভাইরাসটি ছড়ায়। রক্ত ছাড়াও মানুষের লালাতে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস পাওয়া যায়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ লোকের বয়স ৫০ বছরের নিচে। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির রক্তমাখা সু্ইয়ের খোঁচায় ভাইরাসটি সংক্রমণের আশঙ্কা শতকরা ৩০ ভাগ। আর মায়ের রক্তে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস থাকলে জন্মের পরপর সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৯০ ভাগ। তবে মায়ের দুধের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ছড়ায় না। সামাজিক মেলামেশা যেমন— করমর্দন বা কোলাকুলি ও রোগীর ব্যবহার্য সামগ্রী গ্লাস, চশমা, তোয়ালে, জামা-কাপড় ইত্যাদির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় না।
হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৭০ ভাগ রোগীর জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ইতিহাস থাকে না। শতকরা ১০ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক আর প্রায় ৯০ ভাগ শিশু যারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাদের লিভারে স্থায়ী ইনফেকশন দেখা দেয়। একে বলা হয় ক্রনিক হেপাটাইটিস বি। এসব ব্যক্তিই HBsAg পজিটিভ হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের রোগীর প্রায়ই কোনো লক্ষণ থাকে না। এরা কখনো কখনো পেটের ডান পাশে ওপরের দিকে ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা ক্ষুধামন্দার কথা বলে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদেশে গমনের সময় রক্ত পরীক্ষা কিংবা রক্ত দিতে অথবা ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে রোগীরা তাদের ইনফেকশনের কথা জানতে পারে।
ক্রনিক হেপাটাইটিস বি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের প্রধান কারণ। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, যদিও হেপাটাইটিস বি অনেকাংশেই নিরাময়যোগ্য, কিন্তু অ্যাডভান্সড লিভার সিরোসিস অথবা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোগীরা প্রায়ই কোনো শারীরিক অসুবিধা অনুভব করে না। ফলে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ইনফেকশনের চিকিত্সা করা সম্ভব হলেও রোগীকে আর সেভাবে সাহায্য করা সম্ভব হয় না।
ভ্যাকসিনেশন হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কার্যকর। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত মায়ের সন্তান, রোগীর স্বামী বা স্ত্রী, স্বাস্থ্যকর্মী ও থেলাসেমিয়া এবং অন্যান্য হেমোলাইটিক এনিমিয়ার রোগীদের জন্য হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে ভ্যাকসিনটি নিতে হবে কোনো ভালো জায়গা থেকে। কারণ, ঠিকমতো সংরক্ষণ করা না হলে এই ভ্যাকসিন কোনো উপকারেই আসে না।
এর মধ্যেও সুসংবাদ হলো, হেপাটাইটিস বি আজ আর কোনো দুরারোগ্য ব্যাধি নয়। লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেওয়ার আগে এটি ধরা গেলে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির পূর্ণ নিরাময়ের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। পৃথিবীতে আজ এই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে কার্যকর অনেক ওষুধ রয়েছে, যার প্রায় সবকটিই বাংলাদেশে সহজলভ্য। এসবের মধ্যে আছে পেগাসিস, ইন্টারফেরন, ল্যামিভুডিন, এডিফোভির আর সর্বশেষ সংযোজন টেলবিভুডিন, যা এ বছরের প্রথম দিকে আমেরিকায় ফেডারেল ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন পেয়েছে, আর এখন বাংলাদেশেও পাওয়া যাচ্ছে। আরও সুসংবাদ হলো, আমাদের দেশীয় একাধিক ওষুধ কোম্পানি এসব ওষুধের বেশ কিছু এ দেশেই তৈরি করছে এবং তা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে।
তবে চিকিত্সায় প্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্তি নির্ভর করে সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ প্রয়োগের ওপর। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত কোনো রোগীকে হেপাটাইটিস বি-এর যেকোনো ওষুধ দিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যাবে, এমনটা প্রত্যাশা করা ঠিক নয়।
এ জন্য অনেক সময় লিভার বায়োপসি করেও সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ, ওষুধ নির্বাচনে কিংবা প্রয়োগে এতটুকু হেরফের হলেও তাতে ভাইরাল রেজিস্টেন্স তৈরির পাশাপাশি রোগীর লিভারের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
হেপাটাইটিস বি-জনিত লিভার রোগ প্রতিরোধ ও চিকিত্সায় তাই প্রয়োজন সচেতনতার।
একদিকে যেমন প্রত্যেকেরই উচিত হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন নেওয়া, তেমনি হেপাটাইটিস বি-আক্রান্ত ব্যক্তিরও উচিত হতাশ না হয়ে লিভার রোগবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া।
লিভারে আক্রান্ত প্রায় ৩০ শতাংশ রোগী পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়। এ দেশেও আমরা ফ্যাটি লিভারজনিত লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের রোগী পেয়ে থাকি। অতএব সাবধান!

মামুন-আল-মাহতাব
হেপাটাইটিস বি নতুন করে চেনা সহকারী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ২৭, ২০১০

ডায়াবেটিস থেকে মাড়ির রোগ


ডায়াবেটিস রোগটির সাথে মাড়ির রোগের সম্পর্ক এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। ইতিমধ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বেশ উল্লেখযোগ্য মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। একজন ডায়াবেটিস রোগীর মুখের ভেতরে নানান ধরনের রোগ হতে পারে, যেমন-ডেন্টাল ক্যারিজ, মাড়ির রোগ, মুখের বিভিন্ন ধরনের সাদা ঘা, দাঁতের ক্ষয়, কোষ প্রদাহ, আঁকাবাঁকা দাঁত ইত্যাদি। এই সমস- রোগ দাঁতের বা মুখের অসুস্থতার কারণেই শুধু নয়, দেহের অন্য কোন রোগ, অপুষ্টি বা বিপাকজনিত কারণেও হতে পারে। তাই অনেক সময় দেহের অন্যান্য রোগের লক্ষণ মুখের ভেতরে লক্ষ্য করা যায়। মুখের রোগগুলোর মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়ির প্রদাহই পৃথিবীর সব দেশে বেশী।

আমরা জানি দেহে রক্ত প্রবাহের কাজ হচ্ছে কোষে অক্সিজেন ও অন্যান্য উপকরণ বহন করা ও অবশিষ্ট বাজে অংশ বের করে আনা কিন্তু ডায়াবেটিস এর কারণে রক্তপ্রবাহ গুলো চিকন বা সরু হতে থাকে। ফলে দেহে রক্তের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। সেই সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। এই সময়ে মাড়িতে কোন আঘাত লাগলে প্রদাহ দেখা দেয়, তাছাড়াও পূর্বের কোন মাড়ির রোগ থাকলে মাড়ির সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পায়। একজন ডায়াবেটিকের যদি রক্তের শর্করা স্বাভাবিকের চাইতে বেশী থাকে তবে তার পূর্বের ধারণকৃত ডেন্টাল প্লাকের কারণে প্রদাহটি আরও বাড়তে থাকে ফলে ডায়াবেটিকদের মাড়ির এই প্রদাহজনিত রোগ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় বেশী দেখা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের জন্য সৃষ্ট যেমন ৫ টি জটিলতায় ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে সামপ্রতিক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মাড়ির এই রোগকে ষষ্ঠ জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ডায়াবেটিস রোগীদের মাড়ির প্রদাহ বেশী হওয়ার কারণ হলো-

১. দেহে ইনসুলিন ঘাটতি হলে আমিষেরও ঘাটতি হয় ফলে কোষকলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি, সংস্কার ও উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই মুখের কোন স্থানে ঘা হলে ও প্রদাহ থাকলে শুকাতে বিঘ্ন ঘটে।

২. দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে আসে ফলে দাঁতের গোড়ায় প্লাক জমাকালে সহজেই মাড়ির প্রদাহ শুরু হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের দন-ক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ রোগ হতে পারে তার কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন-

(ক) মুখের লালার সাথে গ্লুকোজ মুখে এক ধরনের অণুবীক্ষণিক জীবানুর সাথে মিশে অম্ল বা এ্যাসিড তৈরী করে। এই অম্ল দাঁতের শক্ত আবরণ এনামেলকে ক্ষয় করতে থাকে এবং ধীরে ধীরে দাঁতের ভেতরে গর্তের সৃষ্টি করে।

(খ) মুখের লালার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় এবং পরিমাণ কমে যায় ফলে মুখের অতিরিক্ত শুকনো পরিবেশে আহারের কারণগুলো ধুয়ে মুছে যেতে পারে না। এই খাদ্য কণাগুলো দীর্ঘদিন দাঁতের গায়ে বা ফাঁকে জমে থেকে দাঁতের ক্ষয়রোধের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ডেন্টাল প্লাক কি?

মুখে খাদ্যকণা জমে থেকে যে আবরণ সৃষ্টি হয় এর নাম ডেন্টাল প্লাক। এই ডেন্টাল প্লাক লক্ষ লক্ষ অণুবীক্ষণিক জীবাণুর সমষ্টি। মুখে দুই প্রধান রোগ ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়ির প্রদাহে ডেন্টাল প্লাকই দায়ী। ডায়াবেটিস রোগীদের যে কারণে ডেন্টাল প্লাক বৃদ্ধি পেতে পারে সেগুলো হচ্ছে-

১. ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়ার পূর্বেই যাদের মাড়ির প্রদাহ বা দন-াবরক প্রদাহ থাকে তাদের প্রদাহ নিঃসৃত রস বৃদ্ধি পায় ফলে ডেন্টাল প্লাকও বাড়তে থাকে।

২. বৃহৎ ক্ষুদ্র লালা গ্রন্থি থেকে নি:সৃত রস বৃদ্ধি পায় এবং তা খাদ্যকণার সঙ্গে মিশে প্লাক তৈরী করে।

৩. দাঁত দিয়ে খাদ্যদ্রব্য চিবানোর কর্মক্ষমতা যাদের কমে যায় (ডায়াবেটিস রোগীর মাড়ির সংক্রমণ) তাদের মুখেও প্লাকের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য নিয়ন্ত্রিত হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মাড়ির ও দাঁতের ধারণ শক্তি ও প্রতিরোধ শক্তি কমে যায় ফলে খাওযার সময় বাধা অনুভূত হয়, তাই চিবিয়ে খাবার প্রবণতাও হ্রাস পায়। এ সবের জন্যে ডায়াবেটিস রোগীদের প্লাক বৃদ্ধিও তাড়াতাড়ি হয়।

ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা: মো: ইব্রাহিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব সময়ই তিনটি উ এর কথা বলতেন যথা- উ-উরবঃ, উ-উৎঁম, উ-উরংপরঢ়ষরহব অর্থাৎ প্রতিটি রোগীই যদি নিয়মিত ব্যায়াম, ওষুধ ও রক্ত পরীক্ষা এই তিনটি নীতিকে নিষ্ঠার সাথে পালন করেন তবে তাঁরা অবশ্যই স্বাভাবিকের কাছাকাছি ও সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবেন। তেমনি ডায়াবেটিস রোগীদের মুখের রোগ প্রতিরোধ তিনটি উ মেনে চলা প্রয়োজন।

খাদ্য: প্রথমেই উরবঃ বা খাদ্য নিয়ে আলোচনা করা যাক। বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে শর্করা বা চিনি জাতীয় খাদ্য গ্রহণের পর মুখ পরিষ্কার না হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ধরনের অম্ল বা এসিড তৈরী হয় এবং তা দাঁতকে ক্ষয় করতে থাকে। এই ক্ষয় পদ্ধিতির নামই ডেন্টাল ক্যারিজ। তাছাড়া খাদ্যকণা জমে থাকায় যে আবরণ বা প্লাক সৃষ্টি হয় সেই প্লাক ধীরে ধীরে মাড়িকে আক্রমণ করে ফলে মাড়ির প্রদাহ বা দন-াবরক প্রদাহ শুরু হয়।

ওষুধ : ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেমন নিয়মিত ইনসুলিন বা ট্যাবলেট জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা প্রয়োজন তেমনি দন-ক্ষয় রোগ প্রতিরোধ বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার ফ্লুরাইড ব্যবহারের মাধ্যমে। আমাদের দেশে ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেষ্টই একমাত্র সহায়ক।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দাঁত বা মুখের যত্নের কয়েকটি সতর্কীকরণ ইঙ্গিত:

১. সর্বপ্রথমেই ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখবার চেষ্টা করা প্রয়োজন। রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাই হচ্ছে দাঁত ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধের অত্যন- প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। মাড়ির অতিরিক্ত প্রদাহ অনেক সময় ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি করে। যদি কোন ভাবে কখনো দাঁত ও মাড়ির প্রদাহ শুরু হয় তবে ঐ ঘা শুকাতে সার্জন এর কাছ থেকে আপনার মুখের যত্নের জন্যে কি কি করা প্রয়োজন তাও জেনে নেয়া প্রয়োজন।

২. প্রতি ছয় মাস অন-র একজন ডেন্টাল সার্জনকে দিয়ে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ডেন্টাল সার্জনকে অবশ্যই আপনার ডায়াবেটিস রোগের কথা বলে রাখবেন। যাতে আপনার দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকে সেইজন্য ডেন্টাল সার্জন-এর কাছ থেকে আপনার মুখের যত্নের জন্যে কি কি করা প্রয়োজন তাও জেনে নেয়া প্রয়োজন।

৩. প্রতিদিন দুইবেলা সকালে ও রাতে দাঁত ব্রাশ এবং মাড়ির জন্যে প্রয়োজন একটি নরম টুথপেষ্ট। ব্রাশটিকে উপরের পাটির দাঁত থেকে নিচের পাটির দাঁত ব্রাশ আবার নিচের পাটি থেকে উপরের পাটির দিকে ব্রাশ, এভাবেই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার করা বিজ্ঞানসম্মত।

৪. সমপ্রতি গবেষণায় দেখা যায় যে টুথ পেষ্ট এর বদলে ডেন্টাল ফ্লস (সূতা) দিয়ে দাঁতের ভিতরের ময়লা পরিষ্কার করা অনেক উপকারী। অতএব দুই দাঁতের ফাঁক থেকে খাদ্যকণা বের করে দেবার জন্যে ডেন্টাল ফ্লস বা এক ধরনের সুতা ব্যবহার করা ভালো।

৫. তবে একটি কথা বলে রাখা ভালো যে কখনো যদি আপনার মাড়ি থেকে দাঁত ব্রাশ এর সময় বা খাবার খাওয়ার সময় রক্ত বের হয় তবে তা মাড়িতে প্রদাহের পূর্ব লক্ষণ কিনা বুঝবার জন্য অবশ্যই একজন ডেন্টাল সার্জন-এর পরামর্শ গ্রহণ ও স্কেলিং করা প্রয়োজন। মনে রাখবেন প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধই শ্রেয়, সস্তা ও নিরাপদ।

অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, ডেন্টেষ্ট্রি বিভাগ, বারডেম
ইব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজ
চেম্বার : ১৫/এ গ্রীণ রোড, ঢাকা
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক 

Eczema একজিমা


Signs and Symptoms

1. Itchy, dry, scaly, red, blistered or swollen patches of skin, usually on the wrists, hands, face, scalp, and creases of the knees and elbows.
2. Oozing, crusting, thickening, or sometimes discoloration of the affected skin area.

What to do now
1. Soothe itchiness and keep skin moist by taking warm baths. Use mild cleanser or fragrance-free soap sparingly, and don’t scrub or towel your skin vigorously. Apply a fragrance-free moisturizer after bathing.
2. Apply over-the-counter hydrocortisone cream (don’t apply it on a baby less than 10 years old). Avoid using lotions that contain preservatives, oils, or perfumes.
3. Try an over-the-counter antihistamine to relieve itching.
4. Try not eat foods that seem to make your eczema flare up; some people report problems from cow’s milk eggs, wheat, flour, nuts, and citrus juices.
5. Wear soft, cotton gloves or mittens to bed to limit scratching while asleep. This can be especially helpful for children.
6. Wear loose, comfortable, cool clothing; sweating can make eczema worse. Avoid synthetic and wool fabrics, which may irritate the skin.
7. Relax and relieve stress by taking brisk walks or getting other exercise regularly.

When to call a doctor
1. If your condition doesn’t  get better after a week or two of home care, or if it keeps coming back. Your doctor may suggest more aggressive treatment.
2. If you develop an unexplained itchy rash, and eczema or asthma runs in your family.
3. If you get a yellowish or light brown crust or pus-filled blisters on top of eczema patches. You may have a bacterial infection that needs treatment with antibiotics, or a rare but potentially serious complication caused by a herpes virus.

How to prevent it
1. To keep skin from getting dry, take short, warm  showers or baths, and apply moisturizer immediately afterward.
2. To keep your hands from getting dry and chapped, wear mittens or gloves in cold weather. Wearing cotton gloves under wool or synthetic-fiber gloves will help prevent irritation. Use cotton-lined rubber gloves when you are hand-washing clothes and dishes.
3. Avoid as many skin irritants and allergy causing agents as you can. These include soaps, detergents, fragrances, dust, pet hair, tobacco smoke, and foods that seem to make your eczema worse.
4. Learn to spot potentially stressful situations, and practice relaxation techniques, such as yoga or meditation.
 লক্ষণ ও উপসর্গ
১. ত্বকে চুলকানি, অস্বস্তিযুক্ত শুষ্ক, খরখরে লালচে এবং ফুস্কুরির মতো ছোট ছোট গোটার সমন্বয়, বিশেষত কোমরে, হাতে, মুখে, মাথার তালুতে, হাটুর সন্ধির কাছে এবং কুনুইয়ের কাছে।
২. আক্রান্ত ত্বক থেকে পূজ জাতীয় পদার্থের নিসৃতি, কখনও কখনও ত্বকের রঙ বদলে যাওয়া।

কী করা উচিত
১. চুলকানি নিরাময়ের জন্যে ব্যবস্থা নিন এবং ত্বককে আদ্র রাখতে উষä পানি দিয়ে গোসল করুন। অল্প মাত্রার ক্লিনজার বা গন্ধহীন সাবান সাবধানে আক্রান্ত ত্বকের উপর ঘষে ধুয়ে ফেলুন, এবং টাওয়েল দিয়ে সাবধানে মুছে ফেলুন, বেশি জোরে ঘষার প্রবণতা এড়িয়ে চলুন। এবং গোসল শেষে আদ্রতাদায়ক লোশন আপনার শরীরে মাখুন।
২. ফার্মেসিতে পাওয়া যায় এমন হাইড্রোকার্টিসেন ক্রিম কিনে ব্যবহার করতে পারেন (তবে দশ বছরের ছোট শিশুদের গায়ে এই ক্রিম ব্যবহার করবেন না)। যেসব লোশন, তেল কিংবা প্রসাধনিতে প্রিজারভেটিভ থাকে সেগুলোর ব্যবহার পরিত্যাগ করুন।
৩. ফার্মেসিতে পাওয়া যায় এমন এন্টিহিসটামিন ব্যবহার করে চুলকানির তাগিদ থেকে নিজেকে নিবৃত করতে পারেন।
৪. যেসব খাবার খেলে একজিমার মাত্রা বেড়ে যায়, সেগুলো খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করুন। অনেকের অভিযোগ রয়েছে যে গরুর দুধ, ডিম, গম, আটা, বাদাম এবং লেবু জাতীয় ফলগুলো খেলে একজিমার প্রকোপ বেড়ে যায়।
৫. রাতে কোন সুতির নরম কাপড়ের গ্লাভস হাতে পড়ে ঘুমান যাতে করে রাতে চুলকানির তাগিদ অনুভব করলেও একজিমায় চুলকিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি না হয়। এটা বিশেষত বাচ্চাদের জন্যে অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
৬. ঢিলে ঢালা, আরামদায়ক এবং বেশি গরম নয় এরকম কাপড় পরিধান করুন, কেননা ঘাম একজিমাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সিনথেটিক এবং উলের কাপড় পরিধান করবেন না, কেননা এগুলো ত্বকের উপর অস্বস্তিকর প্রভাব ফেলে।
৭. বিশ্রাম গ্রহণ করুন, এবং মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে নিবৃত্তি পেতে নিয়মিত শরীর চর্চা করুন, দ্রুত হাটার অভ্যাস করুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
১. এক দুই সপ্তাহ যাবৎ ঘরোয়া চিকিৎসার পরও যদি আপনার সমস্যার কোন উন্নতি না ঘটে, কিংবা যদি সেরে গিয়ে পুনরায় শুরু হয়। এক্ষেত্রে ডাক্তার হয়তো আপনাকে আরও গুরুতর কোন চিকিৎসা গ্রহণ করতে বলবে।

২. যদি আপনার ত্বকে অন্যরকম কোন চুলকানিযুক্ত র‌্যাশ বা গোটা দেখা যায়, এবং আপনার পরিবারের কারোর যদি একজিমা বা হাপানি থাকে।
৩. যদি আপনার একজিমায় আক্রান্ত ত্বকের বলয়ে হলদেটে কিংবা হালকা বাদামী পূজময় ফুস্কুরি ওঠে। সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো ব্যাকটেরিয়া বাহিত কোন সংক্রামক রোগ হয়েছে যেটা এন্টিবায়োটিক দিয়ে প্রতিকার করতে হবে, কিংবা হয়তো দুর্লভ কিন্তু মারাত্মক কোন জটিল রোগ হয়েছে যেটা সাধারণত হারপাস ভাইরাস দিয়ে সংক্রামিত হয়।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
১. ত্বক যাতে শুষ্ক হয়ে না ওঠে সে জন্যে অল্প সময়ের জন্যে উষä পানি দিয়ে গোসল করে নিতে পারেন, এবং গোসল সেরে দেরী না করে ময়শ্চারাইজার যুক্ত লোশন মেখে নিন।
২. আপনার হাত যাতে শুষ্ক না হয়ে ওঠে সে জন্যে দস্তানা বা গ্লাভস পড়ে থাকুন। যদি সিনথেটিকের তৈরি গ্লাভসের নিচে কটোনের গ্লাভস পড়ে নিতে পারেন সেক্ষেত্রে শীতকালে আপনার ত্বকে কোন সমস্যা হবে না। যখন জামা কাপড় কিংবা বাসন কোসন ধুবেন, তখন কটোনের উপর রাবারের আস্তরণ দেয়া গ্লাভস পড়ে নিন।
৩. ত্বকে অস্বস্তি বা চুলকানির প্রদাহ সৃষ্টি করে বা এ্যালার্জির সৃষ্টি করে এরকম যতগুলো উপাদান এড়িয়ে চলা সম্ভব চলুন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাবান, ডিটারজেন্ট, সুগন্ধী, ধুলো, পোশা যন্তুর লোম, তামাকের ধোয়া, এবং যেসব খাবার একজিমাকে বাড়িয়ে তোলে সেগুলো।
৪. যেসব পরিস্থীতিতে আপনার মানসিক এবং শারীরিক চাপ দু:সহ হয়ে ওঠে সেগুলো চিহ্নিত করুন এবং সেসব সময়ে নিজেকে শিথীল ও স্বাবাবিক রাখার পদ্ধতিগুলো শিখে নিন, যেমন যোগব্যায়াম কিংবা ধ্যান ইত্যাদি।