About

.

অতিরিক্ত ওজন ও ভুঁড়ি নিয়ে সমস্যা


আমরা কোনো কিছু না ভেবে শুধু দেখেই কাউকে মোটা বা চিকন বলে থাকি। আসলে কিন্তু ব্যাপারটি মোটেই তা নয়। বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই নির্ণয় করে কাউকে রোগা বা মোটা বলা হয়ে থাকে। একজন লোকের ওজন কিলোগ্রামে মাপা হয় এবং উচ্চতা মিটারে মাপা হয়। এবার ওজনকে উচ্চতার বর্গফল দিয়ে ভাগ করা হয়। এই ভাগফলকে বলে বিএমআই। বিএমআই ১৮ থেকে ২৪-এর মধ্যে হলে স্বাভাবিক। ২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে স্বাস্থ্যবান বা অল্প মোটা, ৩০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে হলে বেশি মোটা। আর ৩৫-এর ওপরে হলে অত্যন্ত ও অসুস্থ পর্যায়ের মোটা বলা যেতে পারে।

আবার ভুঁড়ির ব্যাপারেও কিছু মাপের ব্যাপার আছে। পূর্ণবয়স্ক পুরুষের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের কোমরের মাপ ৯৪ সেন্টিমিটার বা ৩৮ ইঞ্চি পর্যন্ত স্বাভাবিক, যদি তার উচ্চতা কম হয়। আর লম্বা পুরুষের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ ১০২ সেন্টিমিটার বা ৪০.২ ইঞ্চি পর্যন্ত স্বাভাবিক।

মহিলাদের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ ৮০ সেন্টিমিটার বা ৩১.৫ ইঞ্চি পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা যেতে পারে। তবে মহিলাদের কোমরের মাপ ৮৮ সেন্টিমিটার বা ৩৪.৬ ইঞ্চি থেকে বেশি হলে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। সুতরাং হুট করেই বিএমআই পরিমাপ বা কোমরের মাপ পরিমাপ না করে বলা যাবে না আপনি মোটা কিংবা আপনার ভুঁড়ি হয়েছে।

শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে মানুষ মোটা হয় বা ভুঁড়ি হয়। ফ্যাট সেল বা চর্বিকোষ আয়তনে বাড়ে তখন শরীরে চর্বি জমে। পেটে, নিতম্বে, কোমরে ফ্যাট সেল বেশি থাকে। অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য দেহে চর্বি জমে, আবার যে পরিমাণ খাওয়া হচ্ছে বা দেহ যে পরিমাণ ক্যালরি পাচ্ছে সে পরিমাণ ক্ষয় বা ক্যালরি খরচ হচ্ছে না-এ কারণেও দেহে মেদ জমতে পারে। এগুলো শোনার বা জানার পর অনেকে হয়তো বলবেন, সঠিক পরিমাণে খাদ্য গ্রহণের পরও ওজন বেশি। তাদের অভিযোগ সঠিক। বংশগত কারণেও মানুষ মোটা হতে পারে। ‘ওব জিন’ নামের এক ধরনের জিন থাকে ফ্যাট সেলের মধ্যে। এগুলো ল্যাপটিন নামের এক রকম হরমোন তৈরি করে। ল্যাপটিন আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে দেহে জমে থাকা চর্বির পরিমাণ জানিয়ে দেয়। হাইপোথ্যালামাস নিউরোসেপটাইড ওয়াই নামে এক রকম উৎসেচকের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রকে উত্তেজিত বা নিস্তেজ করে আমাদের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। জিনগত ত্রুটির কারণে যদি ল্যাপটিন হরমোন কম থাকে, তাহলে ক্ষুধা বেড়ে যায়-এর ফলেও দেহে মেদ বৃদ্ধি পায়। আবার যাদের দেহে ব্রাউন এডিপোজ টিস্যু বেশি থাকে তারা মোটা হয় না।

এছাড়া থাইরয়েড হরমোন মেদ কম বা বৃদ্ধির সাথে জড়িত, থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধি পেলে রোগী প্রচুর খাবে কিন্তু ওজন বাড়বে না। আবার থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

মদ্যপান, অতিরিক্ত ঘুম, মানসিক চাপ, স্টেরয়েড এবং অন্য নানা ধরনের ওষুধ গ্রহণের ফলেও ওজন বাড়তে পারে।

বাড়তি ওজন কিংবা ভুঁড়ি নিয়ে অনেক সমস্যা। বাড়তি ওজনের জন্য যেকোনো ধরনের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া রক্তনালিতে চর্বি জমে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাড়তি ওজন রক্তচাপেরও কারণ।
ডায়াবেটিস টাইপ-২ দেখা দিতে পারে মেদ বৃদ্ধির জন্য। মেদবহুল ব্যক্তির জরায়ু, প্রস্টেট ও কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা শতকরা ৫ ভাগ বেশি।

ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। হাঁটুর সন্ধিস্থল, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আর্থ্রাইটিস, গেঁটে বাত এবং গাউট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। অতিরক্ত চর্বি থেকে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

অতি ওজন ও ভুঁড়ির জন্য যৌনক্ষমতা কমে যেতে পারে। পুরুষের শুক্রাণু কমে যেতে পারে এবং মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন ও ভুঁড়ির মূলে অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা। আবার দেখতেও যথেষ্ট দৃষ্টিকটু লাগে। কোনো পোশাকেই ভালো দেখায় না। বয়সের তুলনায় বয়স্ক দেখায়, অনেক সময় লোকজন বাজে মন্তব্য পর্যন্ত করে থাকে।

অতিরিক্ত ওজন ও ভুঁড়ি কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে সঠিক খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম। কিন্তু দুটিই অত্যন্ত কষ্টের সাথে নিয়মিত করতে হবে। আজ নয়, কাল করব-এমন মনোভাব থাকলে চলবে না।

নিয়মিত হাঁটা সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম। প্রতিদিন নিয়ম করে ১ ঘণ্টা হাঁটতে পারলে খুবই ভালো। সাইকেল চালানো ও সাঁতার কাটাও খুব ভালো ব্যায়াম। ভুঁড়ি কমাতে কিছু আসনের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। এগুলোর মধ্যে ত্রিকোণ আসন, একপদ উত্থান আসন, পবন মুক্তাসন, পশ্চিমোত্থানাসন খুবই কার্যকর।

চর্বিজাতীয় খাবার যেমন-মাখন, তেল, গরু ও খাসির গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় কেউ যদি ওজন কমাতে চান তবে ডায়েটিশিয়ান ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। কেননা ওজন কমাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে গেছেন এমনটিও কিন্তু হয়।

আজকাল অপারেশনের সাহায্যেও ভুঁড়ি কিংবা মেদ কমানো হচ্ছে। লাইপোসাকশন বা অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টির সাহায্যে আজকাল মেদ কমানো হচ্ছে।

মেদ ভুঁড়ি যেখানে এত সমস্যা, সেখানে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। মেদ জমতে শুরু করার প্রারম্ভেই সতর্ক হয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ওজন নিলে ভালো। আবার হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি অসুখের লক্ষণ, তেমনটি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করবেন। পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের মেদ-ভুঁড়ি থেকে রক্ষা করতে পারে। আরেকটি কথা, মেদ বা ভুঁড়ি কোনোভাবেই সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ নয় বরং নানা অসুখের কারণ-এ কথা মনে রাখবেন।
মূল লেখক ডা. ওয়ানাইজা

মেদ কমানোর সহজ উপায়


গাবদা-গোবদা মুখাবয়ব এবং মেদসর্বস্ব দেহ নিঃসন্দেহে কদাকার। ধুমসি দেহ নিয়ে কারো চোখে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায় না। তাই মেদ কমানোর জন্য নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিগুলো মেনে চলুন।


১. ডায়েট কন্ট্রোলঃ সৌন্দর্যচর্চার প্রাথমিক সোপান হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ। ডায়েট কন্ট্রোল না করে স্থূলতা কমানোর অভিপ্রায় দুরাশা মাত্র। একজন স্থূল মেয়ে প্রতিদিন কতটা খাবার গ্রহণ করবে, তা নির্ভর করে তার বয়স, পেশা এবং দৈহিক কাঠামোর ওপর। প্রতিদিন স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০০ ক্যালরি খাবার কম খেলে প্রায় ১ পাউন্ড ওজন কমানো যায়। প্রতিদিন কোনো কাজ না করে চুপচাপ বসে থাকলে একজন মানুষের ১৫০০ ক্যালরির মতো খাদ্য দরকার। তাই স্থূলদেহের মেয়েরা যদি প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১২০০ ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করে তবে দেহের ওজন কমানো যায়। ক্যালরি কম গ্রহণ করলে দেহাভ্যন্তরে বাড়তি মেদ ভেঙে গিয়ে দেহকে বাড়তি ক্যালরি জোগান দেয়। আমিষজাতীয় খাবার খুব তাড়াতাড়ি মানুষের রসনা নিবৃত্তি করে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন স্থূল দেহের মেয়ের খাদ্যে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার থাকা উচিত। শর্করাজাতীয় খাবার যেমন-ভাত, রুটি, গম, ভুট্টা ইত্যাদির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। ১০০০ ক্যালরি খাবারের জন্য ১০০ গ্রাম শর্করাজাতীয় খাবারই যথেষ্ট। যারা ডায়েট কন্ট্রোল করে, তাদের খাবারে থাকবে প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমূল।


ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার যেমন পুঁইশাক, পালংশাক, সবুজ এগুলোতে ক্যালরির মান খুব কম, কিন্তু তা উদরপূর্তিতে সহায়ক। খাদ্যে ভিটামিন এবং অন্যান্য খনিজদ্রব্যের উপস্থিতি থাকবে স্বাভাবিক। মানুষ মোটা হয় শর্করা ও স্নেহজাতীয় পদার্থের ফলে। তাই সবাইকে মনে রাখতে হবে, যাতে খাদ্যদ্রব্যে শর্করা এবং স্নেহজাতীয় খাবারের আধিক্য না ঘটে। খাদ্য কখনো মানুষের শত্রু হতে পারে না কিন্তু তাকে ব্যবহার করতে হবে। বেশি খাওয়া, কম পরিশ্রম করা অনুচিত। যারা বেশি খাবে, তারা বেশি পরিশ্রম করবে-এটাই নিয়ম। নইলে মেদ বৃদ্ধি অনিবার্য। সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে প্রতিদিন ১০০০ ক্যালরি খাবার গ্রহণ করে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ১০০০ ক্যালরির চার্ট দেখে নিজের খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করে নেয়া যায়। যদি ১০০০ ক্যালরি খাদ্য নিয়ন্ত্রণে ভালো ফল না পাওয়া যায়, তবে মাত্র ৪০০ ক্যালরি খাবার গ্রহণ করেও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে শুরুতে ৪০০ ক্যালরি শুরু না করাই ভালো। ডায়েট কন্ট্রোলের জন্য বিভিন্ন তত্ত্ব আবিষকৃত হয়েছে। কিন্তু কোনটি সবচেয়ে ফলপ্রদ, তা আজো অনাবিষকৃত। ১৮৬৩ সালে ডা. উইলিয়াম হার্ভে সর্বপ্রথম ডায়েটিং তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। তবে তার এই তত্ত্ব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ডা. স্টিল ম্যান ‘কুইকি’ নামে একটি ডায়েট কন্ট্রোলের পদ্ধতি বের করেন। তার মতে, স্বাভাবিক প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাদ্য কিন্তু সুষম নয় এ ধরনের খাবার অনেক তাড়াতাড়ি চর্বি জমায়। কিন্তু এ কুইকি পদ্ধতি বেশিদিন চলেনি। কারণ শরীরে শক্তির বিরাট অংশ জোগান দেয় গ্লুকোজ, যা সরাসরি কার্বোহাইড্রেড থেকে আসে। হঠাৎ করে খাদ্যে কার্বোহাইড্রেডের পরিমাণ কমিয়ে ফেলা দেহের জন্য ক্ষতিকর।


১৯৮১ সালে জুডি ম্যাজেলের বিভারলি হিলস ডায়েট আমেরিকায় খুব জনপ্রিয় ছিল। এই পদ্ধতিতে প্রথম ১০ দিন শুধু ফল, ১১ দিন মাখন এবং ভুট্টা। এর পরের ১০ দিন শুধু মাছ বা মাংস খেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বলা হয়েছে বেভারলি হিলস ডায়েট দেহের জন্য ক্ষতিকারক। ইদানীং নাথন প্রিটিকেনের ‘প্রিটিকিন রিগ্রেশন ডায়েট’ স্থূলতা কমাতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ডায়েটে কার্বোহাইড্রেড, কোলেস্টেরল এবং চিনির পরিমাণ অত্যন্ত কম। ১০০০ ক্যালরির এই ডায়েটে যে শুধু মেদ কমানো যায় তাই নয়, এ দিয়ে উচ্চরক্তচাপ, বহুমূত্র পিত্তথলির রোগ প্রতিরোধ করা যাবে।

মুল লেখক ডা. বরেন চক্রবর্তী

ফ্যাট কমানোর ৮ উপায়



শহুরে জীবনে স্থূলতা ক্রমে প্রকট সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। প্রতিদিন আমাদের দেহ যে পরিমাণ ক্যালরি পোড়ায় এর চেয়ে বেশি ক্যালরি খরচের আর কোনো উপায় আছে কি? হ্যাঁ এবং না-এক্সপার্টদের মন্তব্য। দৃশ্যত খাঁটি বিষয়টি হলো বাড়তি ক্যালরি পোড়ানোর এক নাম্বার (এবং আদি ও অকৃত্রিম) উপায় হলো আরো বেশি করে কাজ, হাঁটাচলা করা।

ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনায় ইন্টারডিসিপ্লিনারি ওবেসিটি প্রোগ্রামের ডিরেক্টর ব্যারি এম পপকিন বলেন, আমরা দেখেছি বেশি বেশি নড়াচড়া ছাড়া ক্যালরি খরচ বা বিপাক ক্রিয়া বাড়ানোর কোনো রাস্তা নেই।

যদিও গবেষণায় দেখা যায়, দেহের ক্যালরি খরচের মাত্রা বেড়ে যায় এমন কিছু উপায় আছে। এখানে তেমনি কয়েকটি উপায় দেয়া হলো যেগুলো ব্যবহার করে ক্যালরি পুড়িয়ে স্থূলতার বিরুদ্ধে আপনার যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেন।

এক্সারসাইজের মাধ্যমে ক্যালরি পোড়ানো
এটা খুব সাধারণ ধারণা, যত বেশি এক্সারসাইজ করবেন ক্যালরি খরচ হবে তত বেশি। বস্তুত এক্সপার্টদের মতে, প্রতিদিন সময় নিয়ে হাঁটলে সেটাও ক্যালরি পোড়ানোর একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে। আর এক্সারসাইজের ব্যাপারে কথা হলো, ধীরে ধীরে এর সময় বাড়াতে হবে।

শক্তি বাড়ানোর এক্সারসাইজ করে পেশি তৈরি করুন
আপনি যখন এক্সারসাইজ করেন তখন পেশির ব্যবহার হয়। এর ফলে পেশির দৃঢ়তা বাড়ে। আর এমনকি যদি আপনি বিশ্রাম নেন তখনো পেশির কোষগুলো যতটা ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে দেহের চর্বি ততটা পারে না। বিশ্রামে থাকা অবস্থায় ১০ পাউন্ডের পেশি ৫০ ক্যালরি খরচ করে, যেখানে সমপরিমাণ ফ্যাট মাত্র ২০ ক্যালরি খরচ করে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহের শক্তি বাড়ানোর বিভিন্ন এক্সারসাইজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এ সময় মানুষের বিপাক ক্রিয়া গতি হারায়। এ অবস্থাকে প্রতিহত করতে সপ্তাহে অন্তত কয়েকবার শক্তি বাড়ানোর এক্সারসাইজ করুন। থাই, তলপেট, বুক ও বাহুর পেশিগুলো দেহের সবচেয়ে বড় পেশি, এ কারণে এগুলো বেশি ক্যালরি পোড়াতে পারে।

ক্যাফেইনসমৃদ্ধ গ্রিন বা ব্ল্যাক টি পান করুন
ক্যাফেইন এক ধরনের উদ্দীপক আর উদ্দীপনা দেহে বাড়তি ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। এটা আপনার দেহে কর্ম উদ্দীপনা তৈরি করে আর তার ফলে আপনি বাড়তি নড়াচড়া করেন। এছাড়া ক্যাফেইন দেহের বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটায়, যা আপনার বাড়তি ক্যালরি ধ্বংস করে।

খাবার সঙ্গে চা পান করা চর্বির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আরেক উপায়। চায়ের নির্যাস খাবার সময় দেহের কার্বোহাইড্রেড গ্রহণকে প্রতিহত করে-এমনটাই জানা গেছে সেপ্টেম্বর ২০০৬-এ প্রকাশিত আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন থেকে।

অল্প খান, ঘন ঘন খান
দিনে যে কয়বারই আপনি খাবার খান আপনার গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল প্রক্রিয়া চালু হয়। বস্তুত এটা হলো খাবার হজম হওয়া এবং এর পুষ্টি দেহে ছড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। মানুষের হজম মেশিনটি চালু হতে ক্যালরি খরচ হয় আর এ জন্যই আপনাকে বলা হচ্ছে প্রতিবার অল্প করে দিনে বেশ কয়েকবার খাওয়া-দাওয়া করুন। এতে বাড়তি কিছু ক্যালরি খরচ করতে পারবেন আপনি নিঃসন্দেহে।

সকালের নাশতা এড়াবেন না
ব্রেকফাস্ট সময়মতো করতে হবে। আমেরিকান ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের একটি জার্নালে সম্প্রতি বলা হয়েছে, দেহের ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে ব্রেকফাস্ট এড়ানোর সম্পর্ক আছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে, যারা সকালের নাশতা করেন না, দিনে অতিরিক্ত খেয়ে তারা দেহে বাড়তি ক্যালরি যোগ করেন। তাছাড়া কেবল স্থূলতা এড়াতেই নয়, আদর্শ লাইফস্টাইলের জন্যও এ অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া প্রয়োজন।

অল্প ফ্যাটসমৃদ্ধ ডেয়ারি প্রোডাক্ট খান
স্বল্প ননিযুক্ত খাবারে যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম আছে তা ক্যালরি খরচে ভূমিকা না রাখলেও এর মাধ্যমে দেহে চর্বি জমতে পারে না। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যালসিয়ামে ভরপুর লো-ফ্যাটসমৃদ্ধ ডেয়ারি প্রোডাক্টের সঙ্গে পেটের চর্বির একটা যোগাযোগ আছে।

দিনে দুই লিটার পানি পান করুন
সারা দিনে অন্তত দুই লিটার পানি পান করবেন। এর ফলে আপনার বাড়তি ১০০ ক্যালরি খরচ হবে। জার্মানির এক ছোট গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে, জানালেন পোপ।

ভাবছেন, মাত্র ১০০ ক্যালরি? কিন্তু এ অভ্যাস গড়ে উঠলে সপ্তাহে ৭০০ এবং মাসে আপনার ২,৮০০ ক্যালরি পুড়বে। পাশাপাশি এটা আপনার হজম প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে এবং কিডনিও ভালো রাখবে। বাড়তি লাভ আরো আছে অনেক সময় তেষ্টা পাওয়াকে আমরা ক্ষুধার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি। পানি পর্যাপ্ত খেলে এ বিভ্রান্তি ঘটার সম্ভাবনাও কমে যাবে।

এলোমেলোভাবে নড়াচড়া করুন
যে কোনো ধরনের দৈহিক নড়াচড়ার জন্যই এনার্জি দরকার। আর এলোমেলোভাবে হাঁটাটাও নিশ্চয়ই নড়াচড়ার মধ্যে পড়ে। ইংরেজিতে একে বলে ফিজেটিং। স্পেশালিস্টের বক্তব্য-পুরনো গবেষণায় দেখা গেছে, বাড়তি ক্যালরি খরচ হতে পারে ফিজেটিংয়ের মাধ্যমে। আরেক গবেষণায় দেখা যায়, নিয়ম করে নড়াচড়ার চেয়ে এলোমেলো নড়াচড়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় কে শুকনো আর কে মোটা।

মূল লেখক আবদুল্লাহ উমর

যোনীর সমস্যা

লক্ষণ ও উপসর্গ
ইস্ট ইনফেকশান বা ছত্রাকের সংক্রমন:
১. আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে ওঠা এবং চুলকানো|
২. পস্রাব করার সময়ে জ্বালা পোড়া হওয়া (মাঝে মধ্যে)।
৩. যৌন মিলনের সময় ব্যথা হওয়া|
৪. গন্ধহীন পিচ্ছিল চিজের মতো সাদা রঙ্গের পদার্থ নিসৃত হওয়া (মাঝে মধ্যে)|
ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস
১. যোনী দিয়ে মাছের মতো আঁশটে গন্ধের পানির মতো ধূসর, সাদা কিংবা হলদেটে পদার্থের নির্গমন।
২. মৃদু জ্বালাপোড়া হওয়া কিংবা চুলকানি হওয়া।
স্পর্শ জনিত ত্বকের প্রদাহ বা কন্টাক্ট ডারমাটিটিজ:
১. ভলভার রঙ লাল হয়ে ওঠা এবং চুলকানির অনুভব হওয়া (যৌনাঙ্গের চারপাশের অংশে)

কী করা উচিত

ইস্ট ইনফেকশান বা ছত্রাকের সংক্রমন:
১. যোনীদ্বার শুষ্ক রাখুন, বিশেষত পস্রাব করার পর এবং স্নানের পর|
২. ছত্রাক বাহিত রোগের ক্ষেত্রে ডিসপেন্সারি থেকে কোন ছত্রাক নিরোধোক সাপোজিটরি ক্রিম কিনে ব্যবহার করুন, তবে লক্ষ্য রাখবেন ক্রিমটিতে যেন মাইকোনজল কিংবা ক্লটরিমাজল নামক উপাদান থাকে।
৩. যদি পস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হয় সেক্ষেত্রে একটা প্লাস্টিকের কাপের তলি কেটে সেটা যোনির উপর চেপে ধরে পস্রাব করতে পারেন, এতে করে পস্রাবের সময় সংবেদনশীল ত্বকে চাপ পড়ে এবং উপকার পাওয়া যায়, কিংবা একটা স্কোয়ার্ট বোতল (যে বতোল দিয়ে স্প্রে করা যায়)-এ উষä জল নিয়ে সেটা দিয়ে পস্রাবের সময় ভলভা বা যোনীদ্বারের উপর স্প্রে করতে পারেন।
৪. এই সমস্যা যাতে আবার না হয় সে জন্যে ওষুধগুলো ঠিকমতো সেবন করুন যতদিন না সমস্যা পুরোপুরি সেরে যায়, এমনকি সেরে যাবার পরও কিছুদিন ওষুধ সেবন করুন।
স্পর্শ জনিত ত্বকের প্রদাহ বা কন্টাক্ট ডারমাটিটিজ:
১. আক্রান্ত ত্বকে বা চুলকানি যেখানে হবে সেখানে ঠাণ্ডা তুলোর পিণ্ড বা কাপড় চেপে ধরে রাখুন কিংবা হাইড্রোকরটিসান নামক ক্রিমও ব্যবহার করতে পারেন।
২. আপনার আন্ডারওয়্যার ডিটারজেন্ট দিয়ে ধূয়ে ফেলার পর আবার সেটা পরিস্কার পানি দিয়ে ধূয়ে ফেলুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন
১. যদি ঋতুস্রাবের সময়ের মধ্যবর্তী সময়টাতেও আপনার পস্রাব দিয়ে রক্ত বের হয় কিংবা মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির পরও যদি রক্ত বের হয়; যদি যোনীর ভেতরে কিংবা যোনীদ্বারের উপর শক্ত গোটা হয়, কিংবা যোনীতে ক্রমাগত ব্যথা থাকে বা চুলকানি হয়। সেক্ষেত্রে এগুলো যোনীর কিংবা ভলভা বা যোনীদ্বারের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
২. যদি আপনার যোনী দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত হলদে কিংবা সবুজাভ পদার্থ বের হয়। এটা হয়তো যৌন সংসর্গের দরুন সংক্রামিত কোন রোগের লক্ষণ।
৩. যদি আপনি ব্যাকটেরিয়াল ভেজিনোসিস-এ আক্রান্ত হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে ডাক্তার হয়তো আপনাকে মুখে সেবনযোগ্য কোন এন্টিবায়োটিক দিতে পারে।
৪. যদি প্রথমবারের জন্যে আপনি এই লক্ষণগুলো দেখে থাকেন কিংবা যদি বছরে দুই বারের বেশি এই সমস্যায় আপনি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
৫. যদি লক্ষণগুলো ঘরোয়া চিকিৎসা, বা ডাক্তারি পরামর্শতেও না সারে, কিংবা যদি লক্ষণগুলো অত্যন্ত তীব্র হয়।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
১. মলদ্বার থেকে যেন যোনীতে কোন ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে না পারে সে জন্যে মধ্যবর্তী অংশটুকু ভালোভাবে পরিস্কার করবেন।
২. সুগন্ধ যুক্ত টয়লেট পেপার, কিংবা সাবান, কিংবা মহিলাদের স্বাþহ রক্ষার স্প্রে (ফেমিনিন হাইজিন স্প্রে), ডুশ, কিংবা ট্যাম্পুন ব্যবহার করবেন না।
৩. প্রতিবার ব্যবহারের পর ডায়াফরাম, সারভিকাল ক্যাপ এবং স্পার্মিসাইডাল এ্যাপ্লিকেটর ভালোভাবে পরিস্কার করবেন।
৪. টাইট প্যান্ট, প্যান্টি কিংবা প্যান্টিহোজ কিংবা অন্যান্য পোশাক আশাক যেগুলোর ভেতরে আদ্রতা জমা হয়ে থাকতে পারে সেগুলো পরিধান করবেন না|
৫. যদি আপনি কোন এন্টিবায়োটিক সেবন করেন সেক্ষেত্রে ডাক্তারকে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন ইস্ট ইনফেকশন থেকে রেহাই পাবার জন্যে ছত্রাক নিরোধোক বা এন্টাইফাঙ্গাল ক্রিম যোনীদ্বার বা ভলভায় ব্যবহার করতে পারবেন কি না।
৬. প্রতি মাসে নিজের যোনীদ্বার পরীক্ষা করে দেখুন যোনীদ্বারের ত্বকে কোন পরিবর্তন আছে কি না।
৭. প্রতি বছর অন্তত একবার পেলভিক এবং প্যাপ স্মিয়ার- পরীক্ষা বা টেস্টগুলো করে দেখুন।
৮. যদি আপনার যৌনাঙ্গে আঁচিলের মতো কোন গোটা থাকে সেক্ষেত্রে প্রতি ছয় মাসে একবার প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করুন - ডাক্তার যদি বলে থাকে যে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা রয়েছে, কিংবা যদি আপনার মা ডিইথাইলস্টিলবেস্ট্রল বা ডিইএস নামক মাদক গ্রহণ করে থাকে, যদি আপনি হিসটারেকটমি কিংবা রেডিয়েশন থেরাপি, কিংবা যদি একজনের বেশি সঙ্গির সাথে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হন সেক্ষেত্রে যৌন সংসর্গে সংক্রামিত রোগ এবং যোনীর ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্যান্যদের তুলনায় আপনার ঝুঁকি বেশি।